
For English, please click here
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে বাংলাদেশ পুলিশ আরেকটি তোষামোদপূর্ণ পদক্ষেপ নিল। এই মামলায় একটি অনলাইন সভায় অংশগ্রহণকারী আরো ৫০৩ জনকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে যে ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর এক ভার্চুয়াল সভায় শেখ হাসিনা ইউনূসের প্রশাসনকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য "জয় বাংলা ব্রিগেড" গঠনের অঙ্গীকার করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছে এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
এই মামলাটি বাংলাদেশ পুলিশের প্রশ্নবিদ্ধ মামলা দায়েরের ধারারই অংশ। ক্ষমতা থেকে অপসারণের পর থেকে শেখ হাসিনা ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে এমন হাজার হাজার মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন এ ধরনের মামলা ইউনূস, তথাকথিত বৈষম্য বিরোধী ছাত্র, তারেক রহমান এবং শেখ হাসিনার সরকারসহ নির্বাচিত সরকারগুলোকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে আনা যেতে পারে।
ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলার সমর্থনে প্রমাণ রয়েছে। তিনি নিজেই প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে শেখ হাসিনাকে অপসারণের পরিকল্পনা ছিল তাদের "পরিকল্পিত কৌশলের" অংশ। ছাত্র নেতারাও বলেছেন জুলাই মাসে তাদের আন্দোলন সফল না হলে তারা শেখ হাসিনার নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত হতেন।
অনুরূপভাবে তারেক রহমান অনেক অনলাইন সভায় তার দলের নেতাকর্মীদের প্রতি শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান বারবার জানিয়েছেন। এছাড়াও বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনার অপসারণের জন্য অনেক সমাবেশ ও আন্দোলন করেছেন যাতে দেশের অনেক মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদিকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে বিশেষ করে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অনেককেই বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে অনলাইন প্রপাগান্ডায় জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা উসকে দেওয়া এবং সিভিল সার্ভিস ও নিরাপত্তা বাহিনীতে বিভেদ সৃষ্টির প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অনেকে এখন শেখ হাসিনা ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের অনুরূপ ইউনূস ও অন্যদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয় কি না তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন।