
গত জুলাইয়ের তথাকথিত ছাত্র আন্দোলন, যার পিছনে ষড়যন্ত্রকারীরা সক্রিয় বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাবি করছেন, তা যে অমুলক নয়, সেই সত্যই দিনে দিনে দিবালোকের মতো সুস্পষ্ট হয়ে উঠছে।ওই আন্দোলনের নেপথ্যে যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি সক্রিয় ছিলো, তা তারা নিজেরাই স্বীকার করছে।
অতিসম্প্রতি জামাতের ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবির দাবি করেছে যে তারাই জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলো। এ নিয়ে বৈষম্য-বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারী ও অক্টোবর ২০২৩-এ গঠিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রশক্তির নেতাদের মধ্যে বিরোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে।
বাংলাদেশের প্রধান সংবাদপত্র দ্য ডেইলি স্টার এক রিপোর্টে (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) উল্লেখ করেছে যে ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতারা ফেসবুকে দাবি করেছেন যে তারা গত বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনে পরিচালিত বিদ্রোহের "প্রধান অংশীদার" ছিলেন।
বৈষম্য-বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারী ও বর্তমানে বিলুপ্ত গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির নেতা ও কর্মীরা বলছেন যে শিবিরের নেতা-কর্মীরা অন্যদের মতোই অংশগ্রহণ করেছিল।সমন্বয়কারীরাই নয় দফা দাবি প্রণয়ন করেছিলেন, এবং শিবির কেবল এটি প্রচার করেছিল।
জুলাই বিদ্রোহের প্রধান সংগঠক ও যুব ও ক্রীড়া, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদও এই বিষয়ে মতামত দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “... জুলাই বিদ্রোহের ইতিহাস বিকৃত করবেন না। জুলাই বিদ্রোহ, যা এই প্রজন্মের রক্তে অর্জিত হয়েছিল, সম্পর্কে কোনও মিথ্যা সহ্য করা হবে না। আমি অন্য সব বিষয়ে নীরব থাকতে পারি, কিন্তু এই বিষয়ে নীরব থাকতে পারি না। ইতিহাস চুরি করার নোংরা খেলা বন্ধ করুন।”
এর জবাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিবির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেছেন, “সত্য ইতিহাস জানা অত্যন্ত জরুরি। কৃতিত্বের জন্য জাতীয় ঐক্য বিঘ্নিত করার চেষ্টা করে তৃতীয় পক্ষের জন্য সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা যারা করছে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের ক্ষমা করবে না।”
শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি এবং ছাত্র বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মূল সমন্বয়কারী মো. আবু শাদিক কায়েম লিখেছেন, “গুরুত্বপূর্ণ কাজের দিকে মনোনিবেশ না করে, বর্তমান ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে কে ছিলো, কে থাকবে এই নিয়ে ঝগড়া শহীদদের উপহাস করার মতো।”