Blog
January 25, 2025

বিদেশে সহায়তা কার্যক্রম স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র: বাংলাদেশে অনেক প্রকল্প বন্ধের আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সমস্ত বিদেশি সহায়তা স্থগিত করেছে এবং নতুন সহায়তা বন্ধ করেছে। এই সিদ্ধান্তটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে, যা ৯০ দিনের জন্য বিদেশি উন্নয়ন সহায়তা পর্যালোচনার জন্য নির্দেশ দেয়।

ফাঁস হওয়া এই নথি অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে যে সব বৈদেশিক সহযোগিতা স্থগিত করা হয়েছে সেগুলো বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা খতিয়েও দেখা হচ্ছে।তবে এই স্থগিতাদেশ জরুরি খাদ্য সহায়তা এবং ইসরায়েল ও মিশরের জন্য সামরিক তহবিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ফাঁস হওয়া নথির বিষয়বস্তু বিবিসি নিশ্চিত হয়েছে।

ওই নথি অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, 'পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো নতুন তহবিল অনুমোদিত হবে না বা বিদ্যমান কোনো চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করা যাবে না'।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নোটিশে উন্নয়ন সহায়তা থেকে সামরিক সহায়তা পর্যন্ত সবকিছুর ওপর প্রভাব পড়ার কথা বলা হয়েছে।

২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সাহায্যের জন্য ৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করেছে, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ।

এই স্থগিতাদেশ বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যার মধ্যে যার মধ্যে রয়েছে:

চলমান প্রকল্পের বিঘ্নতা: টেকসই কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং জনস্বাস্থ্য সহ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়িত অনেক প্রকল্প বিঘ্ন বা সম্পূর্ণ বন্ধের মুখোমুখি হতে পারে।

অর্থনৈতিক প্রভাব: সাহায্য স্থগিতকরণ বাংলাদেশের অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে সেসব খাত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নের উপর নির্ভরশীল।

মানবিক সহায়তা: রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়ক কর্মসূচি মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে, যার ফলে মানবিক চ্যালেঞ্জ বৃদ্ধি পেতে পারে।

অনিশ্চয়তা এবং অস্থিরতা: যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যের উপর নির্ভরশীল খাতে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন: এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক এবং কৌশলগত সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (USAID)-এর তথ্য  অনুযায়ী, বাংলাদেশে তাদের কর্মসূচি এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড়, যা খাদ্য নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য কর্মসূচি, পাশাপাশি গণতন্ত্র, সুশাসন, প্রাথমিক শিক্ষা এবং পরিবেশগত বিষয়গুলির মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত করে। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র একটি উল্লেখযোগ্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচি পরিচালনা করে ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে ২৫০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি প্রদান করেছে। বাংলাদেশে রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় লোকদের জন্য মোট সহায়তার পরিমাণ ২.১ বিলিয়ন ডলার।

২০২৩ সালে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ৪৯০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা প্রদান করেছে এবং ২০২৪ সালের জন্য একই পরিমাণ সহায়তা প্রদান করেছে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন সংস্থাগুলির সমিতির (ADAB) পরিচালক একেএম জসিম উদ্দিন বাংলাদেশের কালের কণ্ঠ পত্রিকাকে  বলেন, "USAID সহ বিভিন্ন মার্কিন সংস্থা বড় দাতা সংস্থা। আমাদের আরও বুঝতে হবে যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সহযোগিতা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত কোন কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।"

বাংলাদেশ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতিমালা এবং তাদের বাস্তবায়ন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, যা সংস্থাটিকে দুর্বল করতে পারে এবং বাংলাদেশ ও অনান্য দেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব করতে পারে।