Blog
March 13, 2025

ব্যর্থ ইউনুস সরকারকে অপসারণ করতে  আর কত ধর্ষণে মৃত্যু দেখতে হবে

ইউনুসের সরকারের সময়ে বাংলাদেশে যৌন সহিংসতা উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে, যা সংকটপূর্ণ সমাজের প্রতিফলন।

মাগুরায় ৮ বছর বয়সী এক মেয়ের ধর্ষণ এবং মৃত্যুর ঘটনা সরকারের ব্যর্থতাকে নির্দেশ করে।

২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসে ২৫০টি ধর্ষণের ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৪ জন নারী ধর্ষণের পর হত্যা এবং তিনজন আত্মহত্যা করেছেন।

২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারির মধ্যে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ১৯.৫% বৃদ্ধি পেয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে সারা দেশে ৩৯৫ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ১১৫ জন ধর্ষণের শিকার।

প্রথম আলোর রিপোর্ট: বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে, যেমন গণপরিবহন, চলন্ত যানবাহন, অবকাশ কেন্দ্রে, এবং শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানে।

ধর্ষণের সাজাপ্রাপ্ত অনেক আসামি জামিনে ছাড়া পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে হুমকি দিচ্ছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ও অযোগ্যতার কারণে অনেক জীবন ঝরে গেছে এবং এখন নেতৃত্বের পরিবর্তন প্রয়োজন, যা সকল নাগরিকের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দেবে।

বিস্তারিতঃ

ইউনুস সরকারের সময়ে বাংলাদেশে যৌন সহিংসতার মাত্রা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা একটি ভয়ানক সংকটগ্রস্ত সমাজের করুণ চিত্রই তুলে ধরে। সম্প্রতি ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের যেসব  ভয়াবহ ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে তাতে  দেখা যায় কনিষ্ঠ শিশু থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠ নারী পর্যন্ত নির্বিচার যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন সারা দেশ জুড়ে। এসবের মধ্যে খুবই মর্মান্তিক ঘটনা হলো মাগুরায় ৮ বছর বয়সী এক মেয়ের ধর্ষণ, যার পরিণতিতে সে মারা গেছে আজ (১৩ মার্চ ২০২৫)। এই মেয়েটিকে তারই আত্মীয়রা ধর্ষণ করেছিল। এই ঘটনা শুধু দেশকে স্তম্ভিত করেনি, বরং এটি প্রমাণ করেছে যে ইউনুস সরকারের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার তার নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র- এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসে  ২৫০টি ধর্ষণের ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জন নারী ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন এবং তিনজন আত্মহত্যা করেছেন।

বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য আরও ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে, যাতে উল্লেখ করা হয়েছে যে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারির মধ্যে মাত্র এক মাসে ১৯.৫% বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই সারা দেশে ৩৯৫ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১১৫ জন।

বাংলাদেশের বিশিষ্ট দৈনিক প্রথম আলো এক নিবন্ধে উল্লেখ করেছে যে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নারী ও কন্যাশিশু ধর্ষণের খবর আসছে। আছে বাসে কিংবা চলন্ত পরিবহনে ধর্ষণের ঘটনা, অটোরিকশা থেকে নামিয়ে ধর্ষণ, ট্রলারে দলবদ্ধ ধর্ষণ, অবকাশযাপন কেন্দ্রে বেড়াতে গিয়ে কিশোরী ধর্ষণ, শহীদ দিবসে ফুল কুড়াতে যাওয়া শিশুকে ধর্ষণ।

অন্যদিকে দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ধর্ষণের সাজাপ্রাপ্ত অনেক আসামি এরই মধ্যে জামিনে ছাড়া পেয়ে জেলের বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা হুমকি দিচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে।… ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই দেশ যেন ধর্ষণের এক অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে! রাস্তায় হাঁটতে, গণপরিবহনে উঠতে, বাসের জন্য অপেক্ষা করতে, গণপরিবহনের ভেতরে, উবার, পাঠাও, এমনকি নিজের গাড়িতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, অফিসে–আদালতে, কলকারখানায়, বাড়ির ভেতরে, পার্কে, বিনোদনকেন্দ্রে, মিছিলের মাঝখানে, গণ–আন্দোলনে, লাইব্রেরিতে, খেলার মাঠে, হাসপাতালে, শহীদ মিনার কিংবা দর্শনীয় স্থানে, এটিএম বুথে, এমনকি গণশৌচাগারেও নিরাপদ নন নারী। পরিস্থিতে এমন দাঁড়িয়েছে যে আজকাল পাঁচ মিনিটও একা হেঁটে যাওয়ার সাহস করতে পারি না। অল্প বয়সী মেয়েগুলোর একা পথ চলার কথা তো ভাবতেই পারি না। দিনে–রাতে নিরাপত্তাহীনতার এই চক্র যেন নারীকে বিষণ্ণতা আর হতাশার বলয়ে আটকে ফেলছে।

এই নিবন্ধে আরো সমালোচনা করে বলা হয় বিষয়টি নিয়ে কথা উঠলেই কেউ কেউ বলেন, ধর্ষণের ঘটনা তো বাংলাদেশে নতুন নয়। আগেও তো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। গত ১৫ বছর আপনারা কোথায় ছিলেন?’ গত ১৫ বছর কী হয়েছে, সেই যুক্তিতে তো আর বর্তমানে সংঘটিত অপরাধ বৈধতা পেতে পারে না। ধর্ষণের ঘটনা যেকোনো পরিস্থিতিতেই অগ্রহণযোগ্য। কেউ আবার এ পরিস্থিতির জন্য মেয়েদের, তাঁদের পোশাক কিংবা চালচলনকে দায়ী করেন।

কেউ আবার বলেন, ‘পরিস্থিতি যত ভয়াবহ বলা হচ্ছে, আসলে পরিস্থিতি কিন্তু ততটা ভয়াবহ নয়। তাঁদের উদ্দেশে বলতে হয়, নারীরা নিরাপদে আছেন নাকি নেই, সে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর অধিকার একমাত্র নারীদেরই। কেউ নিরাপদ বোধ করলে তাঁকে বলে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না যে ‘আপনি নিরাপদে আছেন’। ঠিক একইভাবে কেউ যদি তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠিত থাকেন, তবে তাঁকে যতই আশ্বস্ত করা হোক না কেন তিনি অনিরাপদই বোধ করবেনই।

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা ঢাকা ট্রিবিউন এই যৌন সহিংসতার বৃদ্ধি নিয়ে এক রিপোর্ট করেছে, যেখানে বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে বাংলাদেশের গভীর সংকটে হিসাবে বর্ণনা করেছেন।

শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার আজ (২০২৫ সালের ১৩ মার্চ) এক নিবন্ধে প্রশ্ন তুলেছে: “আর কত ৮ বছর বয়সী শিশুকে আমরা কবর দিতে বাধ্য হব?” এই নিবন্ধে ইউনু্সের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করা হয়েছে যে ইউনুস সরকার শুধু তার জনগণকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থই হয়নি, বরং দেশকে একটি বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে গেছে। এতে আরো বলা হয় যে ৮ বছর বয়সী মেয়েটির ধর্ষণ ও মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি বড় ধরনের ব্যর্থতার প্রতিফলন। জুলাই বিদ্রোহের পর সুরক্ষা ও ন্যায়বিচারের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা পূরণে সরকারের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

৮ বছর বয়সী মেয়েটির ধর্ষণের ঘটনার পর জনগণের ক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে, যেখানে ন্যায়বিচার ও অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগের সমাধান করার পরিবর্তে পুলিশ ঢাকায় ধর্ষণের প্রতিবাদ ও ন্যায়বিচারের দাবিতে বিক্ষোভরত নারীদের উপর হামলা চালায়। আরও খারাপ হলো, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে প্রতিবাদকে দমন করার  চেষ্টা করছে।

যৌন সহিংসতার এই মহামারী মোকাবিলায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যর্থতা বাংলাদেশকে ধর্ষকদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত করেছে।

বাংলাদেশের জনগণের জন্য এখন জবাবদিহিতা এবং নেতৃত্বের পরিবর্তন দাবি করার সময় এসেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ও অযোগ্যতার কারণে ইতিমধ্যেই অনেক জীবন ঝরে গেছে। এই সরকারকে এমন একটি প্রশাসন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি, যারা সকল নাগরিকের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দেবে। শুধুমাত্র তখনই বাংলাদেশ এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে এবং একটি সমাজ গড়ে তুলতে পারবে যেখানে নারী ও শিশুরা নিরাপদে বসবাস করতে পারবে।