Blog
February 18, 2025

রাজনীতিতে সংঘাত-সংকুল পরিস্থিতি গভীর হচ্ছেঃ কোন পথে যাচ্ছে বাংলাদেশ

জাতীয় নির্বাচন, ছাত্রদের দল গঠন, আওয়ামী লীগের কর্মী ও সমর্থকদের নির্বিচার ধরপাকড় এবং রাজনৈতিক নেতাদের পাল্টাপাল্টি বিবৃতি ও বক্তব্যে  রাজনৈতিক পরিস্থিতি দিনে দিনে সংঘাত-সংকুল হয়ে ওঠছে। পর্যবেক্ষকদের মনে প্রশ্ন- কোন  পথে  যাচ্ছে বাংলাদেশ? আশার বাণী কমই শোনা যাচ্ছে- হতাশা, ভয় ও সার্বিক অনিশ্চয়তা সারা দেশে সব মানুষের মধ্যেই কমবেশি দৃশ্যমান।

ইউনুস সরকারের সঙ্গে বিএনপি ও অন্যান্য দলের দূরত্ব বেড়েই চলেছে। মতভেদ বাড়ছে অনেক বিষয়ে। অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতা, ব্যর্থতা, পক্ষপাতিত্ব ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনাচার-অবিচার তুলে ধরে সমালোচনায় তারাও আজ মুখর যারা মাত্র ৬ মাস আগেও ইউনুসকে সমর্থন করে কত স্বপ্ন দেখেছেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি)যশোরে এক জনসভায় সুস্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেন যে ইউনুস সরকারের সময় দেশে দুর্নীতি কমেনি; বরং দুর্নীতির রেট বেড়ে গেছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের কোনো নজর নেই। পুলিশ এখনো মাঠপর্যায়ে ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না। এদিকে সরকারের কোনো খেয়াল নেই।

তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, আপনাদের রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার খায়েশ থাকলে দয়া করে পদত্যাগ করেন। দ্রুত নির্বাচন দিন। নতুন দল নিয়ে থাকেন।

ইউনুস সরাকর কবে নির্বাচন দিবেন তা এখনো সুনির্দিষ্টভাবে ঘোষণা করেনি।তবে জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিতে চাচ্ছে। বিএনপি তা মেনে নেবে না জানিয়ে দিয়ে বলেছে স্থানীয় নির্বাচন আগে হলে গ্রামে গ্রামে, পাড়ায় পাড়ায় গণ্ডগোল-সংঘর্ষ হবে। সমস্যা স্থায়ী হবে।

অন্যদিকে ছাত্ররা যে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করতে যাচ্ছে তার নেতৃত্ব নিয়ে দলের যাত্রা শুরুর আগেই বিরোধ তৈরি হয়েছে।এই বিরোধ এতটাই প্রকাশ্যে এসেছে যে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও পোস্ট দিচ্ছে ছাত্রদের শীর্ষ নেতাদের কেউ কেউ।

জামাতের সাথেও ইউনুস সরকারের হানিমুন শেষ হয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে। দলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তি না দেয়ায় জামাতও ইউনুস সরকারের ওপর নাখোশ।আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন মামলায় কারাগারে থাকা রাজনৈতিক নেতাদের অনেকেই মুক্তি পেয়েছে।তবে, এটিএম আজহারুল ইসলামের কারাবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি না পাওয়াকে বৈষম্য বলে মনে করেন দলটির দলটির আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা চেয়েছি অন্তবর্তীকালীন সরকার বৈষম্যহীনতার উদাহরণ সৃষ্টি করবে না। কিন্তু কাউকে মুক্তি দিবে কাউকে মুক্তি দিবে না সরকারের এমন কর্মকাণ্ডে জাতি আশাহত হয়েছে।

এছাড়া জামাত তাদের দলীয় নিবন্ধন ও প্রতীক অনতিবিলম্বে ফেরত চায়। তা নাহলে রা্জপথে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ে সরকারকে বাধ্য করা হবে বলে হুমকি দেয়া হয়েছে।

এই মতবিরোধ ও দন্দ-সংঘাত-সংকুল পরিস্থিতি ইউনুস কীভাবে সামাল দিবেন সেটাই দেখার বিষয়। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন ইউনুস এতে সফল হবেন না এবং এই ব্যর্থতা ঢাকা দেয়ার জন্য আওয়ামী লীগ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টার্গেট করে নতুন কোনো অপারেশন শুরু করবেন- যেমনটা করে আসছেন ক্ষমতা দখলের পর থেকেই।

তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো, বিবিসি বাংলা